The Business Post
শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১

প্রচ্ছদ বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:৪৩:৩২

চামড়া কিনতে ৫৮৩ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা

চামড়া কিনতে ৫৮৩ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা

শাহীন হাওলাদার

আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য এ শিল্পের ব্যবসায়ীদের ৫৮৩ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো। স্বল্পমেয়াদি এ ঋণ বিতরণ করবে সরকারি ৫ ব্যাংক ও বেসরকারি ৩ ব্যাংক।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য ঋণ বাবদ ব্যবসায়ীদের জন্য এবারও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে এবার রুপালি ব্যাংক ঋণ দেবে ২২৭ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ১৪০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ১২০ কোটি, সোনালি ব্যাংক ২৫ কোটি ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ২ কোটি ৫০ লাখ ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অপরদিকে, কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়ের জন্য ব্যবসায়ীদের এ বছর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামি ব্যাংক ৬৭ কোটি, আল-আরাফাহ ইসলামি ১ কোটি ৯ লাখ, ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক ৫০ লাখ ও সিটি ব্যাংক ২০ লাখ টাকার ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতি বছর ব্যাংকগুলো কোরবানির পশুর চামড়া কেনার জন্য ঋণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও ব্যাংকের ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত কাগজে কলমেই থেকে যায়। এ খাতে ঋণ আদায় কমে যাওয়ায় ঋণ বিতরণ কমিয়ে দিয়েছে ব্যাংকগুলো।

চামড়া খাতের ঋণ বিতরণের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গেল বছর (২০২০ সালে ঈদ-উল -আজহা উপলক্ষ্যে) কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য ৬৪৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিলেও বিতরণ করেছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে রাষ্ট্রয়ত্ত জনতা ব্যাংক ১০০ কোটি টাকার বিপরীতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ শুন্য। অপরদিকে, অগ্রণী ব্যাংক ১৮০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে বরাদ্দ রাখলেও বিতরণ করেছে মাত্র ২০ কোটি টাকা, একইভাবে রুপালি ব্যাংক ১৫৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ১১ কোটি , সোনালি ব্যাংক ৭১ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করেছে ৭১ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের ইসলামি ব্যাংক ৫০ কোটি টাকার বিপরীতের কাঁচা চামড়া ক্রয়ে বিতরণ করেছে মাত্র ১২ কোটি আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক ৮০ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করেছে মাত্র ১ কোটি টাকা।

চামড়া খাতে ঋণ বিতরণ কম কেন জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস উল ইসলাম দ্য বিজনেস পোস্ট’কে বলেন, চামড়া শিল্পে সেন্ট্রাল ইটিপি না হওয়ার কারণে রপ্তানিতে ধাক্কা লাগে। চামড়া নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ নিয়ে গতবার যারা যত টাকা অ্যাডজাস্ট করেছে ঠিক ততো টাকাই ঋণ পাবে। কেউ পুরো টাকা পরিশোধ করলে পুরো অর্থ, অর্ধেক করলে অর্ধেক পরিমাণে ঋণ পাবে।’

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, চামড়া কেনার ঋণ মূলত এক বছরের জন্য পাওয়া যায়। যারা গত বছরের টাকা পরিশোধ করেছে তারাই ঋণ পায়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত ২০১৭ সালের পর থেকে চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। যার দরুণ অনেক ব্যবসায়ী খেলাপির তালিকায় পড়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর। অন্যদিকে গত কয়েক বছরে চামড়া শিল্পে যাদের ঋণ দেয়া হচ্ছে তাদের বেশির ভাগের ঋণই ঋণ পুনঃতফসিল করা হচ্ছে। তাই এ খাতের ব্যবসায়ীরা এখনো ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বিজনেস পোস্ট’কে বলেন, ব্যাংকগুলো চামড়া শিল্পে ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়ার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করলেও কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। চামড়া মালিকরা আশানুরূপ ঋণ পাচ্ছে না। ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ ঋণ দেয় তা বিগত বছরের ঋণের সাথে অ্যাডজাস্ট করে (ঋণ পুনঃতফসিল করে)। এতে গত কয়েক বছর যাবৎ চামড়া শিল্প মালিকদের হাতে এ খাতের ঋণের টাকা আসে না। ২০১৭ সালের আগে কিন্তু এ খাতের অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা খেলাপি ছিল না। সাভারে চামড়া শিল্পে হস্তান্তর করে উৎপাদনে যাওয়ার মত সক্ষমতা অনেক ব্যবসায়ীর ছিল না। তাই গত সরকারের কাছে আমাদের দাবি বিগত ২ বছরের (২০১৭-১৯) ঋণের সুদ যেন মওকুফ করে দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন: ‘এবারের কোরবানির চামড়া কিনতে ব্যাংকগুলো কম পরিমাণে ঋণ দিলেও নতুন করে যেন এ ঋণ বিতরণ করে। আগের বকেয়া ঋণের সাথে অ্যাডজাস্ট যেনো না করা হয়। এমন সুবিধা সরকারের পক্ষ থেকে যেনো ব্যাংকগুলোকে বলা হয়।