The Business Post
শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১

প্রচ্ছদ বাণিজ্য

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:১৬:০০

পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড়, বেড়েছে বিক্রি

পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড়, বেড়েছে বিক্রি

আরিফুর রহমান রাব্বী

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরে পবিত্র ঈদুল আজহা। আর তাই শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। তবে বেঁচা-কেনা তুঙ্গে হলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ক্রেতারা জানান, হাটে প্রচুর গরু রয়েছে এবার। এমনকি চাহিদার চেয়ে গরুর যোগান বেশি। এ কারণে সোমবার থেকে কম দামে মিলছে পছন্দের পশু।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বড় বড় গরুর ক্রেতারা এখনও বাজারে আসেননি। বিকেল নাগাদ তারা হাটে ভীড় জমাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের বক্তব্য: দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন বেশিরভাগ ক্রেতা। তবে ছোট ও মাঝারি পশুর চাহিদা বরাবরের মতই বেশি।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর আফতাবনগর ও শাহজাহানপুর গরুর হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

শাহজাহানপুর গরুর হাটে আসা ব্যাংকার সাইফুর রহমান বলেন, গত দিনের তুলনায় দাম কম। তবে ছোট এবং মাঝারি আকারের গবাদি পশুদের চাহিদা বেশি। তিনি গতকাল প্রায় ৭৫ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন। গরুর সংখ্যার চেয়ে ক্রেতা কম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সকাল সাড়ে দশটার দিকে রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে আফতাব নগরের গরুর হাটে আসেন আতিকুল ইসলাম। তিন ঘন্টা হাঁটার পরে তিনি মাঝারি আকারের একটি গরু কেনেন।

দ্য বিজনেস পোস্টকে আতিকুল বলেন, আগের দিনের চেয়ে পশুর হাটে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। আমি মাঝারি একটি গরু ৭৫ হাজার টাকায় কিনেছি। গরু কেনার জন্য আমি আড়াই ঘণ্টা হাটে ঘুরে বেড়াই। দাম কিছুটা কমেছে। তবে আরও কিছুটা কম হলে ভালো হত।

গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। আরামবাগ থেকে শাহজাহানপুর হাটে এসেছেন গরু কিনতে। দ্য বিজনেস পোস্টকে তিনি বলেন: এখানে এসেছেন কারণ এ বছর কমলাপুর গরুর হাট বসেনি। ২ ঘন্টা হাঁটে ঘুরে প্রায় ৫০ হাজার টাকায় একটি মাঝারি আকৃতির গরু কিনেছেন তিনি।

ফারুক বলেন; হাট ঘুরে দেখে মনে হচ্ছে দাম কিছুটা কমেছে। হাটে ভিড় আরও বাড়বে না কমবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। সকাল এগারোটার দিকে বৃষ্টি হয়েছে। আমার মনে হয় বৃষ্টি না হলে বাজারে বেশি ভিড় হত।

রশিদ মোল্লা নামে এক বিক্রেতা জানান, শনিবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ১৩টি গরু নিয়ে আফতাবনগর হাটে এসেছেন। এ পর্যন্ত তার সাতটি গরু বিক্রি হয়েছে।

বিজনেস পোস্টকে তিনি জানান; ছোট ও মাঝারি গরু দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

এই বিক্রেতা বলেন: আজ দাম কিছুটা কমেছে। ক্রেতারা বড় গরুর দাম বলছেন না। গবাদি পশুর খাবারের দাম বেড়েছে, এছাড়া পশু রাজধানীতে আনার ব্যয়বাদ খরচ রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা ন্যায্য দামে গরু বিক্রি করতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

শাহজাহানপুর গরুর হাটের আরেক ব্যবসায়ী আবদুল বারেক বলেন, আমি আশা করি বিকেলে বড় বড় গরুর ক্রেতারা বাজারে আসবেন। বড় বড় গরুর ক্রেতারা মনে করেন চাঁদ রাতে গরুর দাম কমে যাবে। তবে মনমতো দাম না পেলে আমি আমার গরু ফিরিয়ে নিয়ে যাব।

এ বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীনে কোভিড -১৯ মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে ১৯টি গরুর হাট স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই কোনো হাটেই লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি মাস্ক ছাড়াই গরুর হাটে এসেছেন অনেক ব্যবসায়ী এবং ক্রেতারা। সিটি কর্পোরেশনের হাট ইজারাদারদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে দেখা গেছে উদাসীন।

পশুর হাট কর্তৃপক্ষের মতে, তারা মাইকে ঘোষণার মাধ্যমে বারবার হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করছেন।