The Business Post
বুধবার, অক্টোবর ২০, ২০২১

প্রচ্ছদ শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর ২০২১ ১০:৫৮:০৪

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা জারি ইউজিসির

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা জারি ইউজিসির

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি।

নিয়ম-নীতি না মানা ও আইনি জটিলতায় থাকায় ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

ইউজিসি প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, কমিশনের নিয়ম-নীতি, নির্দেশনা উপেক্ষা করে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অননুমোদিত ক্যাম্পাস, অননুমোদিত প্রোগ্রাম এবং অনুমোদিত প্রোগ্রামে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আলাদা আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে এমন ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য দিয়েছে ইউজিসি।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে একাধিকবার সতর্ক করা এবং নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ইউজিসি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়ে প্রতারিত হলে, পরে আইনগত সমস্যায় পড়লে, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা হলে অথবা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম বাতিল হলে বা অতিরিক্ত আসনে ভর্তি হওয়ায় সনদ বাতিল হলে তার দায়-দায়িত্ব ইউজিসির উপর আসবে না।

দেশে ১০৮টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯টিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ইউজিসির ওয়েবসাইট থেকে অনুমোদিত ক্যাম্পাস ও অনুমোদিত প্রোগ্রামে নির্ধারিত আসন সংখ্যার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে গণবিজ্ঞপ্তিতে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী কমিশন অনুমোদিত প্রোগ্রামের অনুমোদনপত্র প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকায় ভর্তির সময় তা দেখে নিতে বলেছে ইউজিসি।


গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া নামে ও স্বনামধন্য বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অবৈধভাবে ওয়েবসাইট বা অফিস খুলে পিএইচডিসহ বিভিন্ন ডিগ্রি দেওয়ার বিষয়টি ইউজিসির নজরে এসেছে।

কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ইউজিসি।

প্রশ্নের মুখে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দুই ভাগে বিভক্ত ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় অবৈধভাবে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। এছাড়া বন্ধ করে দেওয়া আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিকে শিক্ষাকার্যক্রম চালাতে পুনরায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় কুইন্স ইউনিভার্সিটি বন্ধ রেখেছে সরকার। নানা অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লাকেও অনুমোদন দেয়নি ইউজিসি।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ৭টি প্রোগ্রামে ২০২১ সালের স্প্রিং সেমিস্টার থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ইউজিসি।

টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ২০১৫ সালে ১০টি প্রোগ্রামের অনুমোদন পাওয়ার আগেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। এ বিষয়ে মামলা চলছে। ইউজিসি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ফরিদপুর জেলা প্রশাসন থেকে আসা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে ২০১৭ সালে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিল ইউজিসি। আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় ২০১৯ সালে তা প্রত্যাহার করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি প্রোগামে ২০১৯ সালে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানের অর্থ আত্নসাতের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দুদকে পাঠানোর তথ্য দিয়েছে ইউজিসি।

ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি অননুমোদিতভাবে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে বলে ইউজিসির ভাষ্য।

ইবাইস ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে ও আদালতে মামলা চলছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি আরও জানিয়েছে, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অননুমোদিত প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে।

সাময়িক অনুমোদন পেলেও রূপায়ন এ কে এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়, আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ মাখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি, খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, মাইক্রোল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয়নি ইউজিসি।

এছাড়া দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় আদালতের আদেশে বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া গণবিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি আরও জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সনদে স্বাক্ষরকারী হবেন রাষ্ট্রপতি তথা বিদ্যালয়ের আচার্য কর্তৃক নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

কিন্তু মাত্র ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ রয়েছেন। ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়া কেউ নেই।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে এই তিন পদে দায়িত্বশীল কেউ না থাকেন, তাতে ভর্তি না হতে পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি।