ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার জেরে এখন পর্যন্ত উত্তর এবং মধ্য গাজা থেকে চার লাখের বেশি ফিলিস্তিনি ঘর ছেড়েছে।
ইসরায়েল-হামাসের এই সংঘর্ষে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিন হাজার ৫শ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।এর মধ্যে দুই হাজার ২শ’র বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক এবং এক হাজার ৩০০ ইসরায়েলি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)।
আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার শুক্রবার ২৪ ঘণ্টার ‘চরম সময়সীমা’ ঘোষণার পরেই গাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ প্রান্তে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিমান থেকে প্রচারপত্র ফেলতে শুরু করে ইসরায়েলি বায়ুসেনারা। তবে শনিবার ফিলিস্তিনীদের ঘরবাড়ি ছাড়তে নতুন করে আরো ৬ ঘণ্টার সময় বেধে দেয় ইসরায়েল।
মূলত, শুক্রবার থেকেই হামলা এড়াতে বাড়ি ছাড়তে শুরু করেন উত্তর এবং মধ্য গাজার বাসিন্দারা। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী ওই ভূখণ্ডের দক্ষিণপ্রান্তের পাশাপাশি, বেশ কিছু ফিলিস্তিনি এরমধ্যে মিশরে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফিলিস্তিনের এক সাংবাদিক এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিও-তে দেখা যায়, গাড়ির মাথায় বাক্স, বিছানা চাপিয়ে গাজা ছাড়ছেন বাসিন্দারা। যদিও তারা কোথায় যাচ্ছেন , তা জানা যায়নি। এছাড়াও শনিবার গাজার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গিয়েছে ‘দক্ষিণমুখী’ ঘরছাড়া জনতার ঢল। এ সময়ও ইসরায়েলের চালানো বোমা হামলায় নিহত হন বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতেই ইসরায়েলের প্রশাসন জাতিসংঘকে জানায়, গাজার অন্তত ১১ লাখ মানুষকে সরে যেতে হবে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা অসম্ভব বলে প্রকাশ্যে জানায় জাতিসংঘ। এরপর শনিবার আরেক দফা সময় বাড়ায় ইসরায়েল।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরুর আগে গাজায় খাবার, পানি, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। এই পরিস্থিতিতে শনিবার জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘অবিলম্বে গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানো প্রয়োজন।’
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হঠাৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হামাস। জবাবে হামাসকে উৎখাতের নামে ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলে পড়ে ইসরায়েলের বাহিনী। হামাসকে ‘একঘরে’ করে সেনা অভিযান চালাতে তাই গাজাকে বেসামরিক জনতা শূন্য করতে চাইছে ইসরায়েল।